গণি ময়রা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর শপকিপার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শব্দ দুটি এখন প্রায় সবার জানা। এটার পেছনে রয়েছে রোবট সোফিয়ার অবদান। এখনো বাংলাদেশের অনেক মানুষের কাছেই ইন্টারনেট মানেই ফেসবুক,গুগোল আর ইউটিউব। আবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলতে শুধু সোফিয়াকেই বোঝে অনেকে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ধারণাটা আসলে নতুন কিছু নয়। তবে প্রতিনিয়ত নানা কাজে এর ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। যেহেতু এটি মানুষের কাছাকাছি যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম তাই দিন দিন এর ব্যবহার বেড়েই চলেছে।বাংলাদেশেও শুরু হয়েছে এটি নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম। সম্প্রতি প্লেক্সডট দেখিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর তাদের ডিজিটাল শপকিপার গণি ময়রা। প্লেক্সডট সিইও মাসুম আকন্দের ভাষ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আমরা আগেও কাজ করেছি। এর আগের সাফল্য ছিলো জোনাকি অ্যাপ। কিন্তু জোনাকির কাজের পরিধি খুব বড় ছিলো না। তারপর আমরা শুরু করি গণি ময়রা তৈরীর কাজ। আসলে মজার ব্যাপার হলো আমরা যারা এই প্রজেক্টে কাজ করেছি তারা সবাই কলেজের গন্ডিতে ছিলাম। তবে সম্প্রতি আমি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তি হয়েছি। গণি ময়রা মূলত একটা অ্যাপ। এটি নিজেই একটা দোকানদার। আপনাকে শুধু নিশ্চিত করতে হবে ইন্টারনেট সংযোগ এবং চার্জ আছে কিনা। ফোনে অ্যাপটি ইন্সটল করে দোকানে স্ট্যান্ডে আটকে রাখুন। কাস্টমার দোকানে এসে সালাম দিলেই জাগ্রত হয়ে যাবে গনি ময়রা। এরপর সে কাস্টমারের সাথে বাংলায় কথা বলবে। কাস্টমার কি পণ্য চাইছে তা আছে কিনা, সাইজ,ফ্লেভার,পরিমাণ অন্য পণ্যের চাহিদা জানতে চাইবে। ক্রয় নিশ্চিত করলে সে পণ্যটির কিছু তথ্য এবং মেয়াদ সম্পর্কিত তথ্যের কথা বলে। রোবটিক আর্মস সংয়ক্রিয় কন্ট্রোল করতে পারে এই অ্যাপ। এতে সে নিজেই পণ্য বুঝিয়ে দিতে পারে কাস্টমারকে। শুধু তাই নয় কোন ইনভেন্টরী সফটওয়্যার ছাড়ায় কাস্টমারের সাথে কথোপকথনেই বিক্রয় সম্পর্কিত তথ্য হিসাব করে ফেলে গণি ময়রা। এমনকি দোকান মালিক নির্দিষ্ট শব্দ উচ্চারণ করলে পণ্যের মজুদ, মেয়াদ, বিক্রয় তথ্য বলে দেয় গণি ময়রা।প্রতিটি কথোপকথন কে টেক্সটে রূপান্তর করে নিজের ডেটাবেইজে জমা রাখে সে। সেগুলো বিশ্লেষণ করে কখনো কখনো উত্তর দেওয়ার সময়। গণি ময়রা অ্যাপে আপনি দেখতে পারবেন আপনি কি বলছেন তা সরাসরি বাংলায় রূপান্তর হয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনে শুধরে বলা যাবে সঠিক উচ্চারণ এবং গণি ময়রার কি বলছে তা শোনার পাশাপাশি আপনি স্ক্রিনে বাংলায় তা টেক্সট আকারে দেখতে পাবেন।ডিজিটাল প্রযুক্তিতে ভোগান্তি ছাড়ায় কেনাকাটায় আগ্রহী হচ্ছে সাধারণ মানুষ আর এতে দোকানের বিক্রি বেড়ে যাচ্ছে আবার অন্যদিকে দোকান মালিকরা আরো আয় করতে পারছে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। গণি ময়রায় যুক্ত আছে ভয়েস বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা। এতে বড় বড় কোম্পানি টিভি,পত্রিকা,সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়াই সরাসরি গণি ময়রার কথোপকথনের মাধ্যমে কাস্টমারের কাছে তাৎক্ষণিক পণ্যের ভয়েস বিজ্ঞাপন পৌছাতে পারবেন। আর এই বিজ্ঞাপনের উপর নির্দিষ্টটাকারঅংশ পাবেন দোকান মালিক।মোট কথা মোবাইল, ইন্টারনেট, রোবটিক আর্মস,আর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকলেই একটা দোকান চলবে গণি ময়রা অ্যাপের মাধ্যমে, থাকছে সহজ হিসাব নিকাশ,ভয়েস বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয়ের সুযোগ। গত জানুয়ারিতে এটি উন্মুক্ত করা হয়েছিলো। কিন্তু তারপর সামনে আসে কিছু কারিগরি ত্রুটি। এটি হিসাব ভূল করতো, একটা প্রোডাক্টের তথ্য দিতে গিয়ে অন্য প্রোডাক্টের তথ্য দিতো, ইন্টারনেট ছাড়া কাজ করতো না। তারপর আমরা এটাকে পুনরায় ডেভেলপ করতে শুরু করি। এখন ইন্টারনেট ছাড়াই সে ৭ মিনিট সাধারণ কথা বলতে পারে। তবে বাকি প্রবলেম গুলো ঘটেই চলেছে ঠিক করা হলেও। আর সেটির উন্নয়নের জন্য দক্ষ প্রকৌশলী দরকার। তাহলে এটির সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা আরো নিখুঁত হবে বলে আমি মনে করি।এটি গড়ে ৭৬% সফল। সময় লাগবেই এটাকে আরো নিখুঁত করতে, হুট করেই তো আসলে সব কিছু হয় না। তবে এটি কার্যকর কারণ এখন প্রতি ১০০ টিতে সর্বোচ্চ ২৪ টি ভূল আমরা পেয়েছি আবার কখনো ৩-৪ টি।আর যেহেতু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেহেতু আমাদের হাতে প্রশিক্ষণ দেওয়া ছাড়া কোন নিয়ন্ত্রণ নেই।